ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি অবতরণ করে। এর পর দুপুর ১২টার দিকে সপরিবারে বিমান থেকে নেমে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে নেমেই তিনি ফোনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা গ্রহণের পর তিনি দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।
এর আগে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। যাদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল থেকেই কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে শুরু করে মঞ্চ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। "লিডার আসছে" স্লোগানে প্রকম্পিত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করতে করতে মঞ্চের দিকে এগোচ্ছেন। দলের সূত্র জানায়, মঞ্চে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। প্রায় দেড় যুগ পর এটি হবে তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
তারেক রহমানের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত পুরো রুটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিএনপির হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।
সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :